ঝিনাইগাতীতে বিল্লাল হত্যা মামলার জট খুলতে শুরু করেছে
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার জারুলতলা এলাকার ধান ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন (৪৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে এগোচ্ছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৭ জন পুরুষ ও ১ জন নারীকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।নিহত বিল্লাল হোসেন ওই এলাকার জুলহাসের ছেলে। গত ৪ আগস্ট থেকে তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ঝিনাইগাতী থানায় অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ স্বজনদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।পরে ১২ আগস্ট বুধবার সকালে উপজেলার গজারিকুড়া খ্রিস্টান পল্লীর পাশের একটি নির্জন স্থান থেকে মাটিচাপা অবস্থায় বিল্লালের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান শেরপুরের পুলিশ সুপারসহ ঝিনাইগাতী থানা পুলিশের কর্মকর্তারা।মরদেহ উদ্ধারের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৯ জনকে থানায় আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্তদের শনাক্ত করার পর নিরপরাধদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আলামিন বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।বৃহস্পতিবার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে বিল্লাল হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে সকালে স্থানীয় উপজাতীয়দের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবার ও অন্যান্য বাঙালিদের বিরুদ্ধে বাড়িঘর লুটপাট, গরু-ছাগল, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ তোলা হয়।অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা এবং স্থানীয় উপজাতীয় নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাঙালিরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার জন্য এমন অভিযোগ করা হচ্ছে।পুলিশ সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক ৮ জনকে শেরপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।এ বিষয়ে শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহুরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ কাজ করছে।