ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে দিনব্যাপী এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ‘পরিষ্কার রাখি, নিরাপদ থাকি, ঝিনাইগাতী বদলাই’—এই স্লোগানকে ধারণ করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিউটি অব ঝিনাইগাতী’র মূল উদ্যোগ এবং ‘তারুণ্যের ঝিনাইগাতী’র সার্বিক সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজীব শাহা। কর্মসূচির শুরুতে ‘তারুণ্যের ঝিনাইগাতী’র চেয়ারম্যান লুৎফর রহমানের সৌজন্যে অংশগ্রহণকারী সকল স্বেচ্ছাসেবীদের মাঝে সচেতনতামূলক টি-শার্ট বিতরণ করা হয়।কর্মসূচিতে ঝিনাইগাতীর অন্যান্য সামাজিক সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। এতে সরাসরি অংশ নিয়ে সার্বিক সহায়তা করে রক্তসৈনিক ঝিনাইগাতী, ভয়েস অব ঝিনাইগাতী ও সোশ্যাল সিটিজেন ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের অর্ধশতাধিক উদ্যমী স্বেচ্ছাসেবী। পুরো আয়োজনে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে হীরা ডায়াগনস্টিক সেন্টার।অভিযানে স্বেচ্ছাসেবীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আঙিনা, ড্রেন ও আশপাশের ঝোপঝাড়ের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন এবং জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করেন।পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজীব শাহা, উপজেলা প্রকৌশলী অনতু বল এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম।আলোচনা সভায় ‘বিউটি অব ঝিনাইগাতী’র প্রতিষ্ঠাতা পারভেজ মোশাররফ বলেন, “সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ ঝিনাইগাতী গড়ে তোলাই আমাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য। বর্ষার এই সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিরোধে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। প্রশাসন ও স্থানীয় তরুণদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখতে উদ্বুদ্ধ করবে।”‘তারুণ্যের ঝিনাইগাতী’র কার্যকরী সভাপতি শান্ত শিফাত বলেন, “তারুণ্যের ঐক্যবদ্ধ শক্তি যে কোনো সংকট মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছি। এটি কেবল একদিনের কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও পাড়া-মহল্লায় এই পরিচ্ছন্নতার বার্তা পৌঁছে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।”প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. আল আমিন বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধ কেবল সরকারি উদ্যোগে সম্ভব নয়। বিউটি অব ঝিনাইগাতী ও তারুণ্যের ঝিনাইগাতীর সেচ্ছাসেবীদের মতো তরুণদের এমন ইতিবাচক উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সমাজের প্রতিটি নাগরিক নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।”অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভয়েস অব ঝিনাইগাতী’র প্রতিষ্ঠাতা ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের ১নং সদর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহিদুল হক মনিরসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।