শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে তিন লাখ টাকা মূল্যের ঔষধি গাছ কাটার অভিযোগে করা একটি মামলার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে দুটি জিগা ও একটি মান্দার গাছ কাটার চিত্র। সেই মামলায় পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে গাছ কাটার ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। তবে মামলার বাদীর অভিযোগ, গাছ কেটে তার তিন লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে।
ঘটনাটি উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ সোহাগপুর গ্রামের।
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গ্রাম পুলিশ ভজন সরকার আদালতে মামলাটি করেন। এতে বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, মারধর, প্রাণনাশের হুমকি, পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, তিন লাখ টাকা মূল্যের ঔষুধী গাছ কাটা এবং পুকুর থেকে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের মাছ লুটের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় অভিযুক্ত সন্তোষ সরকার ও তার ছেলে রাজিব সরকার গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছেন।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মামলায় বর্ণিত চাঁদাবাজি, গাছ কাটা কিংবা মাছ লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাদের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে মামলাটি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুলাই জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভজন সরকার ও সন্তোষ সরকারের পরিবারের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে সন্তোষ সরকার ও তার চার ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করেন ভজন সরকার।
আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য নালিতাবাড়ী থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন।
তদন্ত শেষে উপপরিদর্শক (এসআই) চন্দন সরকার প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্তদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন এবং পরবর্তীতে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আয়শা সিদ্দিকা, হান্নান, করিমন ও হুমায়ূনসহ কয়েকজন বলেন, তারা চাঁদাবাজি বা গাছ কাটার কোনো ঘটনা দেখেননি। তাদের দাবি, ভজন সরকারের বাড়িতে মামলায় উল্লেখ করা ঔষধি গাছও নেই। জমি নিয়ে বিরোধের কারণে সন্তোষ সরকারকে হয়রানি করতে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
কাকরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়ামুল কাউছার বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় তিনি নিজেও বিচার-সালিশ করেছেন। তার দাবি, ভজন সরকারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এরপরও প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযুক্ত সন্তোষ সরকারের ভাষ্য, সাফকবলা দলিলের মাধ্যমে জমি কিনে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভোগদখল করছেন। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভজন সরকার ও মেঘনাথ সরকার তার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব মামলায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দাবি করে সন্তোষ জানান, প্রতিকার চেয়ে তিনিও পাল্টা মামলা করেছেন।
অন্যদিকে, মামলার বাদী ভজন সরকার সন্তোষ সরকারের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ করেন। একাধিক মামলা দিয়ে তাকেও হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে তিন লাখ টাকা মূল্যের ঔষধি গাছ কাটার অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভজন সরকার বলেন, ‘মামলার খাতিরে এটা করা হয়েছে।’
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই চন্দন সরকার বলেন, চাঁদা দাবি ও তিন লাখ টাকা মূল্যের গাছ কাটার অভিযোগ সত্য নয়। তিনি সঠিকভাবেই তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আফসান আল আলম বলেন, ‘সিআর মামলাগুলো আমার কাছে আসে না। থানা থেকে সরাসরি আদালতে পাঠানো হয়। তবে বিষয়টি দুঃখজনক।’
দুটি জিগা ও একটি মান্দার গাছের দাম কীভাবে তিন লাখ টাকা হয়—এ নিয়ে ওই এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন