শেরবার্তা২৪

মিডিয়া ও ডিজিটাল

পদ থেকে বিদায়, আদর্শ থেকে নয়: আবেগঘন বার্তায় ছাত্রদলকে বিদায় জানালেন নাছির উদ্দিন নাছির

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার স্মৃতি, সংগ্রাম ও সহযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে বিদায় নিয়েছেন নাছির উদ্দিন নাছির। বিদায়ের মুহূর্তে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেছেন, পদ থেকে বিদায় নেওয়া যায়, কিন্তু আদর্শ, ভালোবাসা ও সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে নয়।বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) প্রকাশিত ওই বার্তায় নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ওয়ান ইলেভেনের দুঃসময়ে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু। দীর্ঘ সতেরো বছরের অনিশ্চয়তা, সংগ্রাম, ত্যাগ, নির্যাতন, গুম ও খুনের ভয়াবহ বাস্তবতার মধ্য দিয়ে আজকের অবস্থানে আসতে হয়েছে। এ সময়ে যারা নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের শেষ দিনে তিনি বলেন, এটি ছিল দীর্ঘ, কঠিন, ঘটনাবহুল এবং একই সঙ্গে গৌরবের একটি অধ্যায়। বিদায়ের মুহূর্তে সংগ্রাম, সাফল্য, ব্যর্থতা, আনন্দ-বেদনা এবং সহযোদ্ধাদের ভালোবাসার অসংখ্য স্মৃতি মনে পড়ছে।নোয়াখালীর সুবর্ণচরের সন্তান নাছির উদ্দিন নাছির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। পরে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পাওয়াকে জীবনের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।নিজের রাজনৈতিক জীবনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও আদর্শকে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর দৃঢ়তা, ত্যাগ ও গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল অবস্থান প্রতিটি সংগ্রামের শক্তি হয়ে থেকেছে।২০২৪ সালের ১ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণের পর কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে পথ চলার কথা উল্লেখ করে নাছির বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ছিল সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ওই সময়ে নেতাকর্মীদের রাজপথে সক্রিয় রাখা, সাহস জোগানো এবং সংগঠনের প্রতিটি স্তরকে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখাই ছিল বড় দায়িত্ব।তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে ছিলেন। ঢাকার পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়, পাঁচ কলেজ ও চার মহানগরের তৎকালীন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ইতিহাসে অনেকের নাম লেখা না হলেও হাজারো পরিচয়হীন তরুণের ত্যাগের ওপরই আন্দোলনের ইতিহাস দাঁড়িয়ে থাকে।আন্দোলনের সময়ে নাহিদ, আসিফ, হাসনাত, সারজিস, কাদের, মাহিন, রিফাত রশিদ ও হান্নান মাসুদের সঙ্গে কাজ করার স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে পরবর্তীতে সব অবদান সমানভাবে স্বীকৃতি না পেলেও সংকটকালে তাদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পর নোয়াখালী-ফেনী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার সময়ের স্মৃতিচারণ করে নাছির বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাকে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও তাকে দ্রুত ফেনীতে যাওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশনা পাওয়ার পর রাতেই তিনি ফেনীর উদ্দেশে রওনা হন বলে জানান।তিনি বলেন, রাজনীতি শুধু মিছিল-মিটিংয়ের বিষয় নয়, মানুষের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানোই রাজনীতির সবচেয়ে বড় পরিচয়।দায়িত্ব পালনের সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের ‘মব সংস্কৃতি’, নানা প্রচারণা, অপপ্রচার ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও ছাত্রদলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার সময়ে প্রায় দুই হাজারের বেশি সাংগঠনিক কমিটি গঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কোনো একক ব্যক্তির কৃতিত্ব নয়, বরং ছাত্রদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল।তবে কিছু অপূর্ণতার কথাও স্বীকার করেছেন নাছির। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত অংশ সম্পন্ন করতে না পারার আক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি এজন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।ছাত্রসংসদ নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়ার বিষয়টিও তাকে ভাবিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাজনীতিতে পরাজয় থেকেও শিক্ষা নেওয়া যায় মন্তব্য করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ছাত্রদল ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী, গ্রহণযোগ্য ও সংগঠিত সংগঠন হিসেবে গড়ে উঠবে।বিদায়ী বার্তায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব রকিবুল বকুলসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।এছাড়া ছাত্রদলের কেন্দ্রীয়, জেলা, মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, “আজ দায়িত্ব থেকে বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু ছাত্রদল থেকে নয়। পদ থেকে বিদায় নেওয়া যায়; আদর্শ থেকে নয়, ভালোবাসা থেকে নয়, সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে নয়।”তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্বের পাশে আগের মতোই থাকার প্রত্যয় রয়েছে তার।নিজের আচরণ, সিদ্ধান্ত বা কোনো ভুলের কারণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করে নাছির বলেন, পরিবার, বন্ধু, সাংবাদিকসহ যারা তার রাজনৈতিক পথচলায় পাশে ছিলেন, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তার নেতাকর্মীদের ভালোবাসা ও আদর্শের ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠুক—এটাই তার প্রত্যাশা।

পদ থেকে বিদায়, আদর্শ থেকে নয়: আবেগঘন বার্তায় ছাত্রদলকে বিদায় জানালেন নাছির উদ্দিন নাছির