শেরবার্তা২৪

তারে ছাড়া মরার মতো বাঁচতাম, চিরকুট লিখে কিশোরীর আত্মহত্যা



তারে ছাড়া মরার মতো বাঁচতাম, চিরকুট লিখে কিশোরীর আত্মহত্যা

"মা তুমি আমারে মাফ কইরা দিও। আমি তোমার কথা রাখতে পারলাম না। আমি চাইলে পালিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু তোমার মাথা ধরে যে আমি তোওবা কাটছি। তোমার কিছু হইলে তো আমারে কেউ ছাড়বোনা। আমি মরলে কারো কি কিছু হয়তো না। মা- তুমি শুধু ভাবলা সম্পত্তির কথা। ভালো সংসার আর টাকা। কিন্তু মা-তুমি কি এক বারও ভাবছিলা আমি তারে পাইলে সুখ পাবো। হাজারো দুঃখ-কষ্টে থাকলেও আমি শান্তি পাইতাম। কারন তারে যে আমি ভালোবাসি। তারে ছাড়া যদি তোমরা অন্য কারো সাথে বিয়ে দিতা সত্যি কইতাছি মরার মতো বাঁচতাম।

এমন চিরকুট লিখে গলায় ফাঁস দিয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার আন্ধারুপাড়া গ্রামের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী রিমা আক্তার (১৪)। সে ওই গ্রামের মৃত রিপন মিয়ার দ্বিতীয় কন্যা।

রিমা তার মাকে উদ্দেশ্য করে চিরকুটে আরো লিখেছে, আমারে মাফ কইরা দিও। এখানে কারো দোষ নাই। তাও যদি তোমরা তারে অপরাধী হিসাবে দোষ দেও। তাইলে আমি মইরা গেলেও শান্তি পাইতাম না। ইতি তোমার কপাল পোড়া রিমা।"

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঘরের আড়ার (ধর্নার) সাথে উড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে রিমা আক্তার। একই গ্রামে নিহতের নানার বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে‌।

পারিবারিক সুত্র জানায়, ছোট সময় রিমার তিন বোন রেখে বাবা রিপন মিয়া মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় মারা যান। এর পর থেকে তিন বোনসহ মা জহুরা বেগম আন্ধারুপাড়া গ্রামে তার পিতা হবিবর রহমানের বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। তিন বোনের মধ্যে রিমা আক্তার দ্বিতীয়। সে আন্দারুপাড়া গ্রামের ব্র্যাক স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।

এদিকে, অতি সম্প্রতি রিমার বিয়ের সমন্ধ আসছিল। কিন্তু রিমা পারিবারিক বিয়ের সিদ্ধান্তে রাজি হচ্ছিল না। সে প্রতিবেশী এক যুবককে ভালোবাসতো। এরই এক পর্যায়ে একটি চিরকুট লিখে বাড়ির টিনশেড ঘরের আড়ার (ধর্নার) সাথে উড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে সে।

নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে নিহত রিমার মরদেহ ও একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। একইসাথে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

শেরবার্তা২৪

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


তারে ছাড়া মরার মতো বাঁচতাম, চিরকুট লিখে কিশোরীর আত্মহত্যা

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

"মা তুমি আমারে মাফ কইরা দিও। আমি তোমার কথা রাখতে পারলাম না। আমি চাইলে পালিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু তোমার মাথা ধরে যে আমি তোওবা কাটছি। তোমার কিছু হইলে তো আমারে কেউ ছাড়বোনা। আমি মরলে কারো কি কিছু হয়তো না। মা- তুমি শুধু ভাবলা সম্পত্তির কথা। ভালো সংসার আর টাকা। কিন্তু মা-তুমি কি এক বারও ভাবছিলা আমি তারে পাইলে সুখ পাবো। হাজারো দুঃখ-কষ্টে থাকলেও আমি শান্তি পাইতাম। কারন তারে যে আমি ভালোবাসি। তারে ছাড়া যদি তোমরা অন্য কারো সাথে বিয়ে দিতা সত্যি কইতাছি মরার মতো বাঁচতাম।


এমন চিরকুট লিখে গলায় ফাঁস দিয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার আন্ধারুপাড়া গ্রামের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী রিমা আক্তার (১৪)। সে ওই গ্রামের মৃত রিপন মিয়ার দ্বিতীয় কন্যা।


রিমা তার মাকে উদ্দেশ্য করে চিরকুটে আরো লিখেছে, আমারে মাফ কইরা দিও। এখানে কারো দোষ নাই। তাও যদি তোমরা তারে অপরাধী হিসাবে দোষ দেও। তাইলে আমি মইরা গেলেও শান্তি পাইতাম না। ইতি তোমার কপাল পোড়া রিমা।"


শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঘরের আড়ার (ধর্নার) সাথে উড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে রিমা আক্তার। একই গ্রামে নিহতের নানার বাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে‌।


পারিবারিক সুত্র জানায়, ছোট সময় রিমার তিন বোন রেখে বাবা রিপন মিয়া মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় মারা যান। এর পর থেকে তিন বোনসহ মা জহুরা বেগম আন্ধারুপাড়া গ্রামে তার পিতা হবিবর রহমানের বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। তিন বোনের মধ্যে রিমা আক্তার দ্বিতীয়। সে আন্দারুপাড়া গ্রামের ব্র্যাক স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।


এদিকে, অতি সম্প্রতি রিমার বিয়ের সমন্ধ আসছিল। কিন্তু রিমা পারিবারিক বিয়ের সিদ্ধান্তে রাজি হচ্ছিল না। সে প্রতিবেশী এক যুবককে ভালোবাসতো। এরই এক পর্যায়ে একটি চিরকুট লিখে বাড়ির টিনশেড ঘরের আড়ার (ধর্নার) সাথে উড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে সে।


নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল থেকে নিহত রিমার মরদেহ ও একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। একইসাথে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।


শেরবার্তা২৪

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ শেরবার্তা২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত