শেরবার্তা২৪

বর্ষার ছোঁয়ায় অপরূপ গারো পাহাড়, মেঘ-বৃষ্টির মিতালী দেখতে ছুটে আসুন শেরপুরে



বর্ষার ছোঁয়ায় অপরূপ গারো পাহাড়, মেঘ-বৃষ্টির মিতালী দেখতে ছুটে আসুন শেরপুরে

বর্ষার বৃষ্টিতে নতুন রূপে সেজেছে শেরপুরের সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড়। সবুজ পাহাড়, মেঘের আনাগোনা আর ঝিরঝিরি বৃষ্টির মেলবন্ধনে সৃষ্টি হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য বর্ষাকালেই যেন গারো পাহাড় হয়ে ওঠে এক অনন্য ভ্রমণ গন্তব্য।

পাহাড় আর বৃষ্টি-এই দুইয়ের মেলবন্ধন প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য তুলে ধরে। ভারী বর্ষণের পরিবর্তে যখন ঝিরঝিরি বৃষ্টি নামে, তখন পাহাড়ি পথ ধরে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে অন্যরকম। বৃষ্টির ফোঁটায় ভেজা গাছপালা, মেঘে ঢাকা পাহাড় আর চারপাশের নীরবতা ভ্রমণপিপাসুদের মনে প্রশান্তি এনে দেয়।

বৃষ্টিভেজা পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন মেঘালয়ের সীমান্ত ঘেঁষা শেরপুরের গারো পাহাড়ে। ঢাকা থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার এবং ময়মনসিংহ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই পাহাড়ি অঞ্চলটি প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর।

গারো পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় রয়েছে শাল-গজারি বনের সবুজ সমারোহ। বনের ভেতরে পাখির কলতান, বিরল প্রজাতির পেঁচা, কাঠবিড়ালির ছোটাছুটি আর বৃষ্টির পানিতে ভেজা পাতার দৃশ্য যে কোনো প্রকৃতিপ্রেমীকে মুগ্ধ করবে।

বর্ষার সময় পাহাড়ের বিভিন্ন ছড়া ও ঝরনা-ঝোড়ায় পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। সেই পানির কলকল শব্দ আর পাহাড়ের কোলে মেঘের খেলা ভ্রমণকারীদের মনকে প্রশান্ত করে। শহরের বৃষ্টিতে যেখানে অনেক সময় দুর্ভোগ তৈরি হয়, সেখানে গারো পাহাড়ের বর্ষা হয়ে ওঠে উপভোগের এক অনন্য মুহূর্ত।

‘পর্যটনের আনন্দে, তুলশী মালার সুগন্ধে’—শেরপুর জেলার ব্র্যান্ডিংয়ের অন্যতম আকর্ষণ এই গারো পাহাড়ে রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাটা, বারোমারী মিশন, মধুটিলা ইকোপার্ক; ঝিনাইগাতী উপজেলার সন্ধ্যাকুড়া রাবার বাগান, গজনী সীমান্ত সড়ক, অবকাশ পিকনিক স্পট এবং শ্রীবরদী উপজেলার রাজার পাহাড়, হাড়িয়াকোনা পাহাড়সহ আরও অনেক স্থান।

পাহাড় ঘুরে একান্তে সময় কাটাতে চাইলে ঝিনাইগাতীর গজনী এলাকায় রয়েছে ‘বনরাণী’ নামে একটি রিসোর্ট। সেখানে রাতযাপন করে উপভোগ করা যায় পাহাড়ের রাতের সৌন্দর্য। এছাড়া শেরপুর শহরের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করেও দিনে দিনে ঘুরে দেখা সম্ভব গারো পাহাড়ের বিভিন্ন পর্যটন স্পট।

জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় পর্যটন করপোরেশনের একটি মোটেল স্থাপনের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, “গারো পাহাড়ের গজনী অবকাশ কেন্দ্রে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের টিম রয়েছে। এছাড়াও ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।”

বর্ষার মেঘ, পাহাড়ের সবুজ আর প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ- সব মিলিয়ে শেরপুরের গারো পাহাড় হতে পারে আপনার বর্ষাকালের সেরা ভ্রমণ গন্তব্য।

বিষয় : শেরপুর নালিতাবাড়ী গারো পাহাড় ঝিনাইগাতী

আপনার মতামত লিখুন

শেরবার্তা২৪

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


বর্ষার ছোঁয়ায় অপরূপ গারো পাহাড়, মেঘ-বৃষ্টির মিতালী দেখতে ছুটে আসুন শেরপুরে

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

বর্ষার বৃষ্টিতে নতুন রূপে সেজেছে শেরপুরের সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড়। সবুজ পাহাড়, মেঘের আনাগোনা আর ঝিরঝিরি বৃষ্টির মেলবন্ধনে সৃষ্টি হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য বর্ষাকালেই যেন গারো পাহাড় হয়ে ওঠে এক অনন্য ভ্রমণ গন্তব্য।

পাহাড় আর বৃষ্টি-এই দুইয়ের মেলবন্ধন প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য তুলে ধরে। ভারী বর্ষণের পরিবর্তে যখন ঝিরঝিরি বৃষ্টি নামে, তখন পাহাড়ি পথ ধরে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে অন্যরকম। বৃষ্টির ফোঁটায় ভেজা গাছপালা, মেঘে ঢাকা পাহাড় আর চারপাশের নীরবতা ভ্রমণপিপাসুদের মনে প্রশান্তি এনে দেয়।


বৃষ্টিভেজা পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন মেঘালয়ের সীমান্ত ঘেঁষা শেরপুরের গারো পাহাড়ে। ঢাকা থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার এবং ময়মনসিংহ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই পাহাড়ি অঞ্চলটি প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর।

গারো পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় রয়েছে শাল-গজারি বনের সবুজ সমারোহ। বনের ভেতরে পাখির কলতান, বিরল প্রজাতির পেঁচা, কাঠবিড়ালির ছোটাছুটি আর বৃষ্টির পানিতে ভেজা পাতার দৃশ্য যে কোনো প্রকৃতিপ্রেমীকে মুগ্ধ করবে।

বর্ষার সময় পাহাড়ের বিভিন্ন ছড়া ও ঝরনা-ঝোড়ায় পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। সেই পানির কলকল শব্দ আর পাহাড়ের কোলে মেঘের খেলা ভ্রমণকারীদের মনকে প্রশান্ত করে। শহরের বৃষ্টিতে যেখানে অনেক সময় দুর্ভোগ তৈরি হয়, সেখানে গারো পাহাড়ের বর্ষা হয়ে ওঠে উপভোগের এক অনন্য মুহূর্ত।

‘পর্যটনের আনন্দে, তুলশী মালার সুগন্ধে’—শেরপুর জেলার ব্র্যান্ডিংয়ের অন্যতম আকর্ষণ এই গারো পাহাড়ে রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাটা, বারোমারী মিশন, মধুটিলা ইকোপার্ক; ঝিনাইগাতী উপজেলার সন্ধ্যাকুড়া রাবার বাগান, গজনী সীমান্ত সড়ক, অবকাশ পিকনিক স্পট এবং শ্রীবরদী উপজেলার রাজার পাহাড়, হাড়িয়াকোনা পাহাড়সহ আরও অনেক স্থান।

পাহাড় ঘুরে একান্তে সময় কাটাতে চাইলে ঝিনাইগাতীর গজনী এলাকায় রয়েছে ‘বনরাণী’ নামে একটি রিসোর্ট। সেখানে রাতযাপন করে উপভোগ করা যায় পাহাড়ের রাতের সৌন্দর্য। এছাড়া শেরপুর শহরের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করেও দিনে দিনে ঘুরে দেখা সম্ভব গারো পাহাড়ের বিভিন্ন পর্যটন স্পট।

জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় পর্যটন করপোরেশনের একটি মোটেল স্থাপনের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, “গারো পাহাড়ের গজনী অবকাশ কেন্দ্রে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশের টিম রয়েছে। এছাড়াও ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।”

বর্ষার মেঘ, পাহাড়ের সবুজ আর প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ- সব মিলিয়ে শেরপুরের গারো পাহাড় হতে পারে আপনার বর্ষাকালের সেরা ভ্রমণ গন্তব্য।


শেরবার্তা২৪

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ শেরবার্তা২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত