‘সুখবর, ভর্তি চলছে’—এ ধরনের প্রচারণাসহ সাউন্ড বক্সে উচ্চ শব্দে গান ও বিভিন্ন বিজ্ঞাপন প্রচারের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নালিতাবাড়ী পৌর শহরের জনজীবন। এ ধরনের শব্দদূষণের প্রতিবাদে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে অভিনব কর্মসূচি পালন করেছেন এক কলেজশিক্ষক। থালায় চামচ দিয়ে জোরে আঘাত করে তিনি উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। এসময় তার গলায় ঝোলানো ব্যানারে লেখা ছিল—‘শব্দদূষণ বন্ধ চাই, নিরাপদ পৃথিবী চাই’। শব্দদূষণে জনজীবনের দুর্ভোগ তুলে ধরতেই তিনি এ প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেন।
গতকাল রোববার (১২ জুলাই) নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে এ প্রতিবাদ জানান হাজী নূরুল হক নন্নী পোড়াগাঁও মৈত্রী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। এ সময় তাঁর ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ দেখতে পথচারীরা ভিড় করেন। তাঁদের অনেকেই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উচ্চস্বরে মাইক ও সাউন্ড বক্স ব্যবহারের কারণে পৌর শহরসহ আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থী, রোগী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরাও এ শব্দদূষণের কারণে দুর্ভোগে রয়েছেন। তাঁরা দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান।
ওই শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, 'বর্তমানে শব্দদূষণ এমন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে যা সহ্যের বাইরে চলে গেছে। বর্তমানে এইচএসসি পরীক্ষা চলমান থাকলেও কমেনি শব্দদূষণ, উদ্যোগ নেই প্রশাসনের। আমাদের শ্রবণ ক্ষমতার বাইরে এই শব্দদূষণ রোগীদের অনেক ক্ষতি করছে। শব্দদূষণ করলে যে মানুষের মেজাজ উগ্র হয়, সমস্যা হয়, মানুষ বিরক্ত হয়, তাই অভিনভ কায়দায় আমি এই প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, এরপরও প্রশাসন শব্দদূষণ রোধে কোন ব্যবস্থা না নিলে আমার মতো সচেতন লোকদের নিয়ে আরো বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।'
কর্মসূচি শেষে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) এর কাছে শব্দদূষণ রোধে ছয় দফা সুপারিশসংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
স্থানীয় চিকিৎসকদের ভাষ্য, সাধারণভাবে ৪৫ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ সহনীয়। ৭০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ দীর্ঘসময় মানুষের শ্রবণশক্তি ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাঁদের দাবি, নালিতাবাড়ীতে বিভিন্ন সময় শব্দের মাত্রা সেই সীমার কাছাকাছি বা তারও বেশি পৌঁছে যায়।
এবিষয়ে গতকাল রোববার দুপুর ২টা ২২ মিনিটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে বিষয়টি নিয়ে তিনি পরে কথা বলবেন জানান। কিন্তু এই রিপোর্ট প্রেরণের সময় পর্যন্ত বিকেল ৪টা গড়িয়ে গেলেও তিনি কোন বক্তব্য দেননি।
আপনার মতামত লিখুন