শেরবার্তা২৪

ঝগড়ারচর বাজার - ঝগড়া থেকে নাম, এখন বাণিজ্য ও জনজীবনের কেন্দ্র



ঝগড়ারচর বাজার - ঝগড়া থেকে নাম, এখন বাণিজ্য ও জনজীবনের কেন্দ্র

জাতীয় সংসদে শেরপুর-৩ আসনের এমপি মাহমুদুল হক রুবেলের ঝগড়ারচর বাজারে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি এবং স্পিকারের রসিক মন্তব্যের কারণে আবারও আলোচনায় এসেছে শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী এই বাজার। দীর্ঘ সময় পর নতুন করে আলোচনায় আসায় স্থানীয়দের মধ্যে বাজারের নাম ও এর ইতিহাস নিয়ে কৌতূহল নতুন করে জাগছে।

শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার ৭ নম্বর ভেলুয়া ইউনিয়নের বারারচর মৌজায় অবস্থিত ঝগড়ারচর বাজার শেরপুর ও জামালপুর জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজার হিসেবে পরিচিত। বাজারটির চারপাশে রয়েছে তিনানীপাড়া, ডাকরাপাড়া, মোদকপাড়া, নয়া পাড়া, বারারচর, কাউনেরচর, কান্দাপাড়া ও বাউশমারীসহ নানা গ্রাম।

ভৌগোলিকভাবে ঝগড়ারচর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে অবস্থিত। এর পশ্চিমে ইসলামপুর উপজেলা, উত্তরে বকশীগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে শেরপুর সদর উপজেলা এবং এটি শ্রীবরদীর দক্ষিণ সীমান্তে। শ্রীবরদী, বকশীগঞ্জ, ইসলামপুর, শেরপুর ও জামালপুর জেলা শহরের সঙ্গে পাকা সড়ক যোগাযোগের কারণে এটি একটি ব্যস্ত বাণিজ্য ও যাতায়াত কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঝগড়ারচর বাজার শুধু শেরপুরের নয়, জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ, কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর এলাকার মানুষদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও চলাচলে অংশ নেন।

রবিবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল বাজারটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানান। তার বক্তব্যে বাজারের গুরুত্ব এবং নিরাপত্তার বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর স্পিকারের রসিক মন্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ঝগড়ারচর নামের উৎপত্তি নিয়েও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। ইতিহাস ও স্থানীয় বর্ণনা অনুযায়ী, বাজারটির পূর্ব নাম ছিল ‘গোবিন্দগঞ্জ বাজার’। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বাজার স্থানান্তরের সময় বাউশমারী-কড়ইতলা এলাকার বাসিন্দা ও বর্তমান স্থানের লোকেদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা মতবিরোধ ও ঝগড়া ঘটেছিল। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে এলাকা পরিচিত হয় ‘ঝগড়ারচর’ নামে।

স্থানীয়রা বলছেন, “নামের উৎপত্তি ঝগড়া থেকে হলেও বাস্তবে এলাকা শান্তিপূর্ণ এবং বাণিজ্যনির্ভর জনপদ হিসেবে পরিচিত।” সময়ের সঙ্গে গোবিন্দগঞ্জ নাম হারিয়ে গিয়ে ঝগড়ারচর স্থায়ীভাবে পরিচিতি পায়। তবে বিভিন্ন জায়গার ব্যবসায়ী ও এই ঐতিহাসিক বাজার এলাকার মানুষদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল সাহেব পুলিশ ফাঁড়ি চেয়ে প্রস্তাব দিয়েছেন- যা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের।

বর্তমানে ঝগড়ারচর বাজার শেরপুর ও জামালপুর অঞ্চলের অন্যতম বড় বাণিজ্য কেন্দ্র। বিশেষ করে মিষ্টি বরই, মহিষের টক দই এবং শীতকালে ঐতিহ্যবাহী ‘গাবা’ বা ‘পিঠালি’ তরকারির জন্য বাজারটির ব্যাপক খ্যাতি রয়েছে। স্থানীয়রা মনে করেন, এই পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝগড়ারচরের সুনাম ছড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বাজারটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও জনসংযোগ বিবেচনায় দ্রুত সেখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হবে, যাতে আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হয় এবং ব্যবসায়ীরা নিরাপদ পরিবেশে কার্যক্রম চালাতে পারেন।

আপনার মতামত লিখুন

শেরবার্তা২৪

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


ঝগড়ারচর বাজার - ঝগড়া থেকে নাম, এখন বাণিজ্য ও জনজীবনের কেন্দ্র

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুন ২০২৬

featured Image

জাতীয় সংসদে শেরপুর-৩ আসনের এমপি মাহমুদুল হক রুবেলের ঝগড়ারচর বাজারে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি এবং স্পিকারের রসিক মন্তব্যের কারণে আবারও আলোচনায় এসেছে শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী এই বাজার। দীর্ঘ সময় পর নতুন করে আলোচনায় আসায় স্থানীয়দের মধ্যে বাজারের নাম ও এর ইতিহাস নিয়ে কৌতূহল নতুন করে জাগছে।

শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার ৭ নম্বর ভেলুয়া ইউনিয়নের বারারচর মৌজায় অবস্থিত ঝগড়ারচর বাজার শেরপুর ও জামালপুর জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজার হিসেবে পরিচিত। বাজারটির চারপাশে রয়েছে তিনানীপাড়া, ডাকরাপাড়া, মোদকপাড়া, নয়া পাড়া, বারারচর, কাউনেরচর, কান্দাপাড়া ও বাউশমারীসহ নানা গ্রাম।

ভৌগোলিকভাবে ঝগড়ারচর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে অবস্থিত। এর পশ্চিমে ইসলামপুর উপজেলা, উত্তরে বকশীগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে শেরপুর সদর উপজেলা এবং এটি শ্রীবরদীর দক্ষিণ সীমান্তে। শ্রীবরদী, বকশীগঞ্জ, ইসলামপুর, শেরপুর ও জামালপুর জেলা শহরের সঙ্গে পাকা সড়ক যোগাযোগের কারণে এটি একটি ব্যস্ত বাণিজ্য ও যাতায়াত কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঝগড়ারচর বাজার শুধু শেরপুরের নয়, জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ, কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর এলাকার মানুষদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এখানে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও চলাচলে অংশ নেন।

রবিবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল বাজারটিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানান। তার বক্তব্যে বাজারের গুরুত্ব এবং নিরাপত্তার বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপর স্পিকারের রসিক মন্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ঝগড়ারচর নামের উৎপত্তি নিয়েও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। ইতিহাস ও স্থানীয় বর্ণনা অনুযায়ী, বাজারটির পূর্ব নাম ছিল ‘গোবিন্দগঞ্জ বাজার’। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বাজার স্থানান্তরের সময় বাউশমারী-কড়ইতলা এলাকার বাসিন্দা ও বর্তমান স্থানের লোকেদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা মতবিরোধ ও ঝগড়া ঘটেছিল। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে এলাকা পরিচিত হয় ‘ঝগড়ারচর’ নামে।

স্থানীয়রা বলছেন, “নামের উৎপত্তি ঝগড়া থেকে হলেও বাস্তবে এলাকা শান্তিপূর্ণ এবং বাণিজ্যনির্ভর জনপদ হিসেবে পরিচিত।” সময়ের সঙ্গে গোবিন্দগঞ্জ নাম হারিয়ে গিয়ে ঝগড়ারচর স্থায়ীভাবে পরিচিতি পায়। তবে বিভিন্ন জায়গার ব্যবসায়ী ও এই ঐতিহাসিক বাজার এলাকার মানুষদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল সাহেব পুলিশ ফাঁড়ি চেয়ে প্রস্তাব দিয়েছেন- যা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের।

বর্তমানে ঝগড়ারচর বাজার শেরপুর ও জামালপুর অঞ্চলের অন্যতম বড় বাণিজ্য কেন্দ্র। বিশেষ করে মিষ্টি বরই, মহিষের টক দই এবং শীতকালে ঐতিহ্যবাহী ‘গাবা’ বা ‘পিঠালি’ তরকারির জন্য বাজারটির ব্যাপক খ্যাতি রয়েছে। স্থানীয়রা মনে করেন, এই পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝগড়ারচরের সুনাম ছড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বাজারটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও জনসংযোগ বিবেচনায় দ্রুত সেখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হবে, যাতে আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হয় এবং ব্যবসায়ীরা নিরাপদ পরিবেশে কার্যক্রম চালাতে পারেন।


শেরবার্তা২৪

সংবাদ পরিবেশনার আধুনিক সমাধান

কপিরাইট © ২০২৬ শেরবার্তা২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত