শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ঈদের আড়াই দিন পর ৩০ মে শনিবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত ৮০জন হতদরিদ্র অসহায় মানুষের মধ্যে কুরবানীর গোশত বিতরণ করা হয়েছে।
মানবিক কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তারুণ্যের ঝিনাইগাতী। আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ঢাকার এক এনজিও দাতা সংস্থা বাঙালী ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের পুরাতন ভবনের মাঠ প্রাঙ্গণে।
সারিকালীনগর গ্রামের মেছের আলী কোরবানির মাংস পেয়ে বলেন, “আহা! আমরা আইজ গোশতদিয়ে পরিবারের সবাই খাইতে পারমু। তারুণ্যের ঝিনাইগাতী আর বাঙালী ফাউন্ডেশনেরে দোয়া করি, আল্লাহ ওনাগো বালা রাখুক।"
গোমরা গ্রামের সুফিয়া কান্না গলায় বলেন,“আজকে আমরা গোশত পাইছি। লুৎফর ভাইরে আল্লাহ সুখে রাখুক। তিনি হতদরিদ্র মানুষের উপকার করার চেষ্টা করেন।
গান্ধীগাঁও গ্রামের খুদেজা বেওয়া বলেন, “যারা এই গোশত দিছে, তাদের আল্লাহর ভালা করবো!
কুশাইকুড়া গ্রামের সানোয়ারা বলেন,“আমাদের জন্য যারা আয়োজন করেছে, আল্লাহ তাদের ভালা করবো। প্রত্যেকে ১ কেজি কইরা গোশত পাইছে। লুৎফর ভাই আর স্বেচ্ছাসেবীরা অসহায় মানুষের পাশে থাকেন, আল্লাহর কাছে দোয়া করি।”
স্বেচ্ছাসেবী শান্ত শিফাত বলেন, “ সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে অসহায়দের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কুরবানীর গরু জবাই করে গোশত হতদরিদ্রের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। আনোয়ার হোসেন জানান, মাংসের প্যাকেট ৮০ জন হতদরিদ্র মানুষকে বিতরণ করা হয়েছে।
বাঙালী ফাউন্ডেশনের কার্যকরী সদস্য রুবেল বলেন, কোরবানির গরুটি শ্রীবরদি উপজেলার বকচর মাদ্রাসা মাঠে জবাই করে প্যাকেট তৈরি করে পাঠানো হয়েছে। মানুষের পাশে থাকা এবং প্রয়োজনে সহায়তা করাই আমাদের লক্ষ্য।
তারুণ্যের ঝিনাইগাতীর চেয়ারম্যান ও ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব লুৎফর রহমান বলেন, "বাঙালী ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কথা বলে ঝিনাইগাতীর হতদরিদ্র মানুষের জন্য এই কোরবানির ব্যবস্থা করেছি। প্রত্যেকে ১ কেজি বা তার বেশি গোশত পেয়েছেন। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে সহানুভূতি ও মানবিকতা বৃদ্ধি করে এবং স্থানীয় মানুষদের মধ্যে একত্ববোধ সৃষ্টি করে।”
আপনার মতামত লিখুন