শেরপুরে পৃথক দুটি এলাকায় এক শিশু (১১) ও এক তরুণীকে (২০) ধর্ষণের অভিযোগে থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা দুটিতে পুলিশ এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, শহরের ঢাকলহাটি এলাকার ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে বিয়ের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে গত ৩-৪ মাস ধরে একাধিকবার ধর্ষণ করেন একই এলাকার কাওসার মিয়া (২৪)। এতে শিশুটি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে কাওসারের পরিবার জোরপূর্বক ওষুধ খাইয়ে শিশুটির গর্ভপাত ঘটায়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে শুক্রবার বিকেলে তাকে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় শনিবার দুপুরে শিশুটির মা বাদী হয়ে কাওসারসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা না করার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, সদর উপজেলার চরখারচর এলাকায় এক তরুণী (২০) মাঠে গরু আনতে গিয়ে বৃষ্টির কবলে পড়ে একটি দোকানের পাশে আশ্রয় নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সুযোগে স্থানীয় মামুন মিয়া (৪০) ওই তরুণীকে টেনেহেঁচড়ে দোকানের ভেতর নিয়ে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি গোপন রাখতে মামুন ভুক্তভোগী পরিবারকে অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করার এবং হুমকি দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন। গত শুক্রবার রাতে ওই তরুণী বাদী হয়ে মামুনসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
শেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, দুটি ঘটনার ক্ষেত্রেই থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। অভিযুক্ত আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে”।
আপনার মতামত লিখুন