প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
দফায় দফায় চোরাচালান আটক, আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয়রা বলছে - ‘আই ওয়াশ’!
ডেস্ক নিউজ ||
শেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তে দফায় দফায় বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি পণ্য জব্দ করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সর্বশেষ অভিযানে ১১ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় কাপড় জব্দ করা হয়েছে। তবে এসব ঘটনায় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে না দেখা যাওয়ায় স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করছেন, এসব অভিযান কেবল ‘আই ওয়াশ’। আবার কারও কারও ধারণা, বিপুল পরিমাণ মালামাল জব্দের আড়ালে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। যদিও এসব ধারণার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের রাংটিয়া সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় কাপড়গুলো জব্দ করে হলদীগ্রাম সীমান্ত ফাঁড়ির বিজিবি সদস্যরা।ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হলদীগ্রাম সীমান্ত ফাঁড়ির সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা কাপড় ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ফেলে যাওয়া ভারতীয় কাপড়গুলো জব্দ করা হয়। জব্দকৃত কাপড়ের আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা।ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজীম বায়েজিদ বলেন, আন্তর্জাতিক সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।স্থানীয়রা বলছেন, ঝিনাইগাতী সীমান্তে প্রায়ই বিপুল পরিমাণ মাদক, ভারতীয় কসমেটিকস, শাড়ি, কম্বলসহ বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য আটক করা হয়। কিন্তু এসব ঘটনায় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার হতে দেখা যায় না। ফলে স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, শুধু মালামাল জব্দ করে চোরাচালান বন্ধ করা সম্ভব নয়।সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, “সীমান্তে প্রায়ই বড় বড় চালান আটক হওয়ার খবর শুনি। কিন্তু যারা এসব মালামাল আনা-নেওয়ার সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকে গ্রেপ্তার হতে দেখি না। আমাদের মনে হয়, এসব অভিযান শুধু দেখানোর জন্য।”সেচ্ছাসেবী ও স্কুল শিক্ষক রহমত আলী বলেন, “এত বিপুল পরিমাণ মালামাল সীমান্ত দিয়ে আসে, অথচ এর সঙ্গে জড়িতদের কাউকে ধরা হয় না। আমাদের ধারণা, চোরাচালানের মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।”একই ইউনিয়নের গান্ধীগাঁও গ্রামের আরেক বাসিন্দা বলেন, “বারবার চোরাচালান আটক হচ্ছে, কিন্তু চোরাকারবারিরা ধরা পড়ছে না। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেন, এসব অভিযান কতটা কার্যকর, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।”সচেতন নাগরিক ও স্বেচ্ছাসেবী পারভেজ মোশারফ বলেন, “সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে শুধু মালামাল জব্দ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং এর পেছনের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বারবার বড় চালান আটক হলেও যদি অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়, তাহলে স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধারণা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। এসব অভিযানের কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”স্থানীয়দের ধারণা, চোরাচালান প্রতিরোধে শুধু পণ্য জব্দের মধ্যে অভিযান সীমাবদ্ধ থাকলে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য প্রবেশ বন্ধ করা কঠিন। তাদের মতে, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, পরিবহনকারী ও মূল হোতাদের শনাক্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।সীমান্তে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকলেও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মালামাল জব্দের পাশাপাশি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সম্পাদক : এস.কে. সাত্তার
এস.কে. সাত্তার মার্কেট, উপজেলা পরিষদ রোড, ঝিনাইগাতী, শেরপুর।
প্রয়োজনে : ০১৬১০-৭০৯১১৩। মেইল : info@sherbarta24.com
কপিরাইট © ২০২৬ শেরবার্তা২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত