প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষক দিবসে শান্ত শিফাতের স্মৃতিচারণে দুই প্রধান শিক্ষকের স্নেহে গড়া জীবনের গল্প
ডেস্ক নিউজ ||
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিচারণ করে নিজের জীবনের ভিত গড়ে দেওয়া দুই পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দৈনিক বাংলা ও আগামীর সময়ের সাংবাদিক শান্ত শিফাত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় তিনি তাঁর জীবনের প্রথম প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই প্রধান শিক্ষকের স্নেহ, শাসন ও অনন্য শিক্ষাদর্শনের স্মৃতি তুলে ধরেন।শান্ত শিফাত তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে স্মরণ করেন সারিকালীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রহমান স্যারকে। শৈশবে বড় বোন আশার হাত ধরে একদিন ওই বিদ্যালয়ে বেড়াতে গিয়েই হেড স্যারের নজরে পড়েন তিনি। স্যারের পরম স্নেহে বলা "তুমি কাল থেকে প্রতিদিন স্কুলে আসবা"—এই একটি বাক্যই তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার দ্বার উন্মোচন করে। বাবার সাথে কথা বলে নিয়মিত স্কুলে যাওয়ার কিছুদিন পরই স্যার তাঁকে সরাসরি দ্বিতীয় শ্রেণীতে ভর্তি করে নেন।আব্দুর রহমান স্যারের শিক্ষকতার নিষ্ঠা তুলে ধরে তিনি জানান, রহমান স্যার ছিলেন এক অনন্য অভিভাবক। প্রতিদিন একটি ভাঙা সাইকেলে চড়ে অনেক কষ্ট করে নিয়মিত সবার আগে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতেন তিনি। কোনো শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে নিজে খোঁজ নিতেন কোনো অসুস্থতা হয়েছে কি না। সেই ভাঙা সাইকেল নিয়েই জড়িয়ে আছে তাঁর শৈশবের এক মজার অভিজ্ঞতা। একদিন বন্ধুদের নিয়ে চুপিচুপি স্যারের সাইকেল চালানো শিখতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে যান। বকা খাওয়ার ভয়ে থাকলেও স্যার সেদিন রাগ না করে বরং পরম স্নেহে বলেছিলেন, "সাবধানে ও ধীরে ধীরে শিখতে হয়, নয়তো ব্যথা পাবে।" মূলত স্যারের সেই সাইকেল দিয়েই তাঁর সাইকেল চালানো শেখা।একই সাথে তিনি সারিকালীনগর স্কুলের আরেক স্নেহময়ী শিক্ষিকার কথাও স্মরণ করেন, যিনি মাতৃস্নেহে শিক্ষার্থীদের আগলে রাখতেন। অভিমান করে বসে থাকলে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করতেন। সেই শিক্ষিকার এক সন্তান বর্তমানে বিসিএস কৃষি ক্যাডার হিসেবে দেশসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।মাধ্যমিক জীবনের স্মৃতিতে শান্ত শিফাত সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেন আহমদ নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব শাহজাহান আকন্দ স্যারকে। শাহজাহান আকন্দ স্যার শুধু তাঁর শিক্ষকই ছিলেন না, তাঁর প্রয়াত বাবারও শিক্ষক ছিলেন। বাবার হাত ধরেই তিনি ভর্তি হয়েছিলেন আহমদ নগর উচ্চ বিদ্যালয়ে। মাত্র দুই বছর স্যারের সান্নিধ্য পেলেও তা জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।কৈশোরের দুষ্টুমির একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, একবার পিটির সময় লুকিয়ে থাকা, টিফিন টাইমে স্কুল পালানোসহ না বুঝে বড় একটি ভুল করে ফেলেছিলেন। প্রচলিত নিয়মে অভিভাবকের কাছে নালিশ যাওয়ার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আকন্দ স্যার তা করেননি। তিনি শান্ত শিফাতকে ডেকে অত্যন্ত শান্ত গলায় বলেছিলেন, "তোমার বাবা কিন্তু আমার ছাত্র, তুমিও এখন আমার ছাত্র। আমি শিক্ষক হয়ে এক ছাত্রের বিচার আরেক ছাত্রের কাছে দিতে পারি না। আমি চাই তুমি আজ থেকে সব দুষ্টুমি বাদ দিয়ে নিয়মিত স্কুলে আসো আর সবকিছুতে মনোযোগী হও।" শিক্ষকের সেই মহানুভবতা ও দূরদর্শী কথা কিশোর শান্ত শিফাতকে আমূল বদলে দিয়েছিল। এর কিছুদিন পরেই স্যার অবসরে চলে যান।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের তাৎপর্যে সাংবাদিক শান্ত শিফাত বলেন, "মানুষ গড়ার কারিগর এই দুই মহান শিক্ষকই আমার জীবনের চলার পথের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।" তিনি তাঁর শিক্ষকদের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করার পাশাপাশি পৃথিবীর সকল শিক্ষকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জ্ঞাপন করেন।
সম্পাদক : এস.কে. সাত্তার
এস.কে. সাত্তার মার্কেট, উপজেলা পরিষদ রোড, ঝিনাইগাতী, শেরপুর।
প্রয়োজনে : ০১৬১০-৭০৯১১৩। মেইল : info@sherbarta24.com
কপিরাইট © ২০২৬ শেরবার্তা২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত