প্রিন্ট এর তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
জমি নিয়ে বিরোধে পাঁচজনকে কুপিয়ে আহত, প্রতিপক্ষের বাড়িতে লুটের অভিযোগ
আমানুল্লাহ আসিফ, স্টাফ রিপোর্টার ||
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নারীসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পর প্রতিপক্ষের বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বাড়ির মালিকের দাবি, লুটপাটে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এলাকাবাসী লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার খরচ মেটাতে স্থানীয়ভাবে ওই জিনিসপত্র বিক্রি করা হচ্ছে।উপজেলার যোগানিয়া ইউনিয়নের তালুকপাড়া গ্রামে গত বৃহস্পতিবার সকালে মারধর ও কোপানোর ঘটনা ঘটে। এর দুই দিন পর শনিবার সকালে প্রতিপক্ষের বাড়িতে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তালুকপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন (৬০) ও সোহেল (৩৫) চাচাতো-জেঠাতো ভাই। প্রায় দেড় বছর ধরে তাঁদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিসও হয়েছে।গত বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে সোহেলের ছোট ভাই জিয়ার মিয়া (৩০) বিরোধপূর্ণ জমিতে আইল বাঁধতে গেলে আনোয়ারের লোকজন বাধা দেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে জিয়াকে মারধর করা হয়। পরে জিয়ার বাড়ি থেকে সোহেলের স্ত্রী, ছেলে ও বোনসহ তাঁর পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে পাঁচজন আহত হন।আহত ব্যক্তিরা হলেন জিয়ার মিয়া, রেজাউল (২৫), অন্তর (১৯), টুকুনি (৪০) ও আয়েশা (৩০)। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।এদিকে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় আনোয়ারের পক্ষের লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এ সুযোগে শনিবার সকালে স্থানীয় লোকজন আনোয়ারের সেমিপাকা বাড়িতে গিয়ে মালামাল নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন আনোয়ার।আনোয়ারের দাবি, বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ মণ ধান, ৪০ মণ চাল, চারটি সেচমোটর, দুই ভরি স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, একটি ট্রাক্টর ও ধান মাড়াইয়ের মেশিন নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।তবে লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের ভাষ্য, আহত ব্যক্তিরা দরিদ্র হওয়ায় তাঁদের চিকিৎসার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে আনোয়ারের বাড়ির কিছু মালামাল বিক্রি করে সেই অর্থ চিকিৎসার কাজে ব্যয় করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকাবাসী একটি কমিটি করে চাঁদা তুলে আহতদের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করছেন।
সম্পাদক : এস.কে. সাত্তার
এস.কে. সাত্তার মার্কেট, উপজেলা পরিষদ রোড, ঝিনাইগাতী, শেরপুর।
প্রয়োজনে : ০১৬১০-৭০৯১১৩। মেইল : info@sherbarta24.com
কপিরাইট © ২০২৬ শেরবার্তা২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত